Sunday, 26 September 2021

ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহােদয়ের আত্ম-মানবতাবাদী সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য, ধর্মপ্রচার ও মিশন....

 

ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহােদয়ের আত্ম-মানবতাবাদী সংক্ষিপ্ত জীবনালেখ্য, ধর্মপ্রচার ও মিশন....

শ্রী সুনয়নংকর ভিক্ষু।।
আবাসিক শিষ্য, জ্ঞানশরণ মহারণ্য, রাংগুনীয়া।
বাংলার বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির নবজাগরণে , আত্মমানবতার সেবায় বর্তমান সময়ে বৌদ্ধদের মাঝে ধুতাঙ্গ ভান্তে, ধ্যানী- সাধক রূপে যার নাম বেশি উচ্চারিত তিনি হচ্ছেন বাংলার সাংঘিক পরিব্রাজক, মানবতাবাদী সংঘপুরােধা, সুদেশক, পরমারাধ্য ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহােদয়। যিনি অল্প বয়সে আত্মশােধনের মাধ্যমে আত্মমুক্তি এবং ধর্মপ্রচারের মাধ্যমে পরহিত সাধন হিসেবে বেছে নিয়েছেন সন্ন্যাস জীবন। পায়ে হেঁটে বুদ্ধবাণী ধর্মপিপাসু নর-নারীর মাঝে দেশনায়, বক্তব্যে, আচরণে, চারিত্রিক মাধুর্যে চলেছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে, শহর থেকে নগরে। স্বপ্রতিভায় তিনি ত্যাগ, সাধনায়, প্রজ্ঞা, মহত্ত্ব দিয়ে আপামর বৌদ্ধ জনসাধারণের মধ্যে হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তী।
রত্নগর্ভা চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানার অন্তর্গত কর্ণফুলীর শাখা হালদা ও মগদাই বহমান নদী বিধৌত ইতিহাস, ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ সুপ্রাচীন বৌদ্ধ জনপদ মধ্যম মার্দাশা গ্রাম । এই গ্রাম অনেক পুণ্য পুরুষের জন্মগ্রহণে পুণ্যস্নাত । যার অতীত ঐতিহ্য অত্যন্ত গৌরবের। সেই জন্মতীর্থে ১৯৮৪ সালের ১৬ই আগষ্ট ধার্মিক পিতা দিলীপ বড়ুয়া ঔরষে পুণ্যবতী মাতা ডেজী বড়ুয়ার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন । তিনি জন্মসূত্রে নগেন্দ্র মাস্টারের বাড়ীর সন্তান। অতঃপর জন্ম জন্মান্তরের অপরিহার্য উর্ধ্বমুখী শােভন সংস্কারের প্রবল আকর্ষণে উপযুক্ত বয়সে পদার্পন করার পর ২০০৪ সালের ২৪শে অক্টোবর সন্ন্যাস জীবন গ্রহণ করেন । তিনি পরিচিত হলেন আগারিক জীবন থেকে ভিক্ষু শরণংকর নামে ।
সন্ন্যাস জীবন হল উন্মুক্ত পাখির মতাে স্বাধীনভাবে ধর্মানুশীলন ও সকল প্রকার পারিবারিক বন্ধন মুক্ত একাকি বসবাস। যেখানে রয়েছে স্বর্গীয় সুখ ও প্রতিনিয়ত আত্মশোধনে পন্থা। কালের বিবর্তনে জগতের বহু পুণ্যবান, জ্ঞানী-গুণী, মহামনিষী এই অমৃত আস্বাদ গ্রহণ করে হয়েছেন স্মরণীয় ও বরণীয় । ভিক্ষু হওয়ার পর তিনি প্রথম ছয় বছর সাধারণ জীবন যাপন করলেও প্রতিনিয়ত কীভাবে একাকিত্ব হয়ে জ্ঞান লাভ করবেন সেই মানসিকতায় নির্জনতা খোঁজতেন । এভাবে ২০১১ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে আধ্যাত্মিক জীবন অধিষ্ঠান গ্রহণ করে রাউজান , হাটহাজারী , রাঙ্গুনীয়া , বােয়ালখালী থানার বৌদ্ধপল্লীর প্রাচীন ১৮টি শ্মশানে একাকি বিচরণ করেন ।।
এরপর আরণ্যিক জীবনের আস্বাদ উপলদ্ধির জন্য ২০১২ সনে গহীন থেকে গহীনে ধ্যানময় জীবনচর্চার নিরিখে প্রবেশ করেন ওনারই সাধনপীঠ পুণ্যভূমি খ্যাত জ্ঞানশরণ মহারণ্যে। এটি রাঙ্গুনীয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তরে পাহাড়ী বনাঞ্চল অধুষিত বৌদ্ধজনপদ ফলাহারিয়া গ্রাম । যে গ্রামে অর্ধযুগ আগেও হিংস্র বন্য প্রাণীর ভয়ে বসতি মানুষের জনকোলাহল নীরব ছিল । জ্যোতিষ্মান ব্যক্তিদের পুণ্যজ্যোতি যেমন দিকে দিকে প্রসারিত হয় তেমনি কিছুদিনের মধ্যে এ গ্রামবাসী সহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে আগত দর্শনার্থীদের মনে ধৰ্মসংবেগ ও ধর্মাচরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় । সেসময় সঠিক ধর্মাচরণের কারণে অনেক পরিবারে হঠাৎ পরিবর্তনতা ও ধর্মপ্রীতি অনুধাবণ হয় । আস্তে আস্তে বৌদ্ধ গ্রাম, সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের ধর্মাশীলনের মিলনমেলা সৃষ্টি হয় পূজনীয় ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহােদয়ের ধ্যান কুঠির।
সেই স্রোতধারায় ২০১৪ সালে রাউজান, আবুরখীল গ্রামে, ২০১৫ সালে রাউজান, আধারমানিক গ্রামে থেরো অভিধা প্রদান, ২০১৬ সালে রাউজান, বৃহত্তর হোয়ারাপাড়া গ্রামে ও চট্টগ্রাম মহানগর রেলওয়ে পলােগ্রাউন্ড ময়দানে ২০১৭ সালে ধর্মদান করেন। সেই থেকে শুরু করেন দীর্ঘপদব্রজে গমনে ধর্মপ্রচারের ঐতিহাসিক অধ্যায়। ফেরার পথে পুজনীয় ভান্তে চট্টগ্রাম মহানগর হইতে চান্দগাঁও, বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া উপজেলার ৩০টির অধিক বৌদ্ধ গ্রামে পদার্পণ ও ধর্মপ্রচার করে পুনরায় ধ্যানকুঠিরে ফিরে আসেন।।
এভাবে আরো কিছু সময় পরে চলমান জীবনকে ধ্যানের উন্নত পর্যায়ে অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধি করতে কিছু সময় একাকি নির্জনতায় বিভিন্ন শ্বাপদসংকুল, কণ্টকাকীর্ণ স্থানে বিচরণ করেন । এরইমধ্যে জ্ঞানশরণ মহারণ্য কিছু কিছু প্রকল্পকাজ শুরু হয়। সমবেত বন্দনা, দৈনন্দিন আহার সংগ্রহ, ধর্মদান, নির্জনে একাকী ধ্যানানুশীলন, উপদেশ প্রদান সহ বিভিন্ন আত্ম-মানবিক কাজের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হতে লাগল সন্ন্যাস জীবন। একসময় বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক দানশীল ব্যক্তিত্ব বাবু স্বপন বড়য়া চৌধুরী মহােদয়ের প্রার্থনায় রাজধানী ঢাকা মহানগরে ধর্মপ্রচারের প্রার্থনা গ্রহণ করেন ।
চট্টগ্রাম, রাঙ্গুনীয়া থেকে যাত্রাকালে বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি মহিলা কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরস্থ, নন্দনকানন বৌদ্ধ বিহারে বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। সেখানে চট্টগ্রামের মাননীয় সিটি মেয়র জনাব আ.জ.ম নাসির উদ্দিন সাহেব প্রধান অতিথি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের পুলিশ ডি আই জি এস এম মুনিরুজ্জামান বিপিএম , সিপিএম মহােদয়ের বিশেষ অতিথিত্বে এক ধর্মসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন চট্টগ্রাম মহানগরের সহস্রাধিক বৌদ্ধ নর নারীর সমাগমে সিটি মেয়র ও ডি আই জি সাহেব ধর্মদেশনা শ্রবণ করেন ও পূজনীয় ভান্তের নিকট আশীর্বাদ গ্রহণ করেন । উল্লেখ্য ঢাকা মহানগরে গমনকালে বাংলাদেশ সরকারের সম্মানিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহােদয়ের সহযােগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক সার্বিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেহেতু পুলিশ সহকারে চট্টগ্রাম থেকে রওনা হয়ে মিরসরাই থানায় গমন করেন। সেখানে মিরসরাই বৌদ্ধ অষ্টগ্রামের সমন্বয়ে দমদমা গ্রামে এক ধর্মসভার আয়ােজন করা হয় । সেখানে প্রধান অতিথি ইঞ্জিনিয়ার মােশাররফ হােসেন এমপি মহােদয়ের অনুমােদনে মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জনাব মােঃ রাশেদ খান মেনন এমপি ও প্রধান পৃষ্টপােষক সাবেক শিল্পমন্ত্রী দানশীল ব্যক্তিত্ব বাবু দীলিপ বড়ুয়ার উপস্থিতিতে মিরসরাই , নিজামপুর পাহাড়ে প্রতিষ্ঠিত পূজনীয় ভান্তের ধ্যানকুঠির ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করেন। সেসময় প্রধান পৃষ্টপােষক রূপে যাবতীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করেন সাবেক শিল্পমন্ত্রী মহােদয়। সেখান থেকে বের হয়ে ফেনী , কুমিল্লা , নারায়নগঞ্জ হয়ে মাত্র ১৫ দিনে চট্টগ্রাম হতে ঢাকা মহানগরে সশিষ্য সেবক সহকারে প্রবেশ করেন। বাংলাদেশ বৌদ্ধ সমিতি ঢাকা অঞ্চল কর্তৃক আয়ােজিত ধর্মসভা ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ সালে উত্তরা, বাংলাদেশ বৌদ্ধ মহাবিহার ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। সেদিন প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিবর্তে উক্তদিন বাংলাদেশ দূতাবাস এর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাননীয় মাসিয় বানিকেট ও থাইল্যান্ড এর রাষ্ট্রদূত পেনপিমন সোওয়ান্নাপােনাস মহােদয়া ধর্মানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। পূজনীয় ভান্তে ঢাকা মহানগরে সফলতার সহিত পদব্রজে ধর্মপ্রচার শেষ করে প্রত্যাবর্তন পথে নর্দা, কালাচাঁদপুর ও ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহারে বিশ্রাম ও দিনব্যাপী ধর্মানুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সেসময় বাংলাদেশী বৌদ্ধদের সর্বোচ্চ ধর্মীয়গুরু মহামান্য ২৮তম সংঘনায়ক, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন সংঘমনিষা, মানবতাবাদী, অনাথপিতা ভদন্ত শুদ্ধানন্দ মহাথের মহােদয়ের সান্নিধ্যে আশীর্বাদ গ্রহণ ও বিভিন্ন উপদেশাদি গ্রহণে আন্তরিক হৃদতা বিনিময় করে সপ্তাহকাল সেখানে অবস্থান ও ধর্মদান করেন।
এভাবে ২০১৮ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহােদয়ের আন্তরিক সহযােগিতায় পুনরায় বাংলাদেশ পুলিশ কর্তৃক সম্মান সহকারে পটোকলে প্রত্যাবর্তন মুন্সিগঞ্জের, বজ্রযোগিনীতে অতীশ দীপংকর বাস্তুভিটা পরিদর্শন করে পুনরায় ঢাকা, কুমিল্লা, ফেনী, মিরসরাই, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাংগুনীয়া হয়ে জ্ঞানশরণ মহারণ্যে প্রত্যাবর্তন করেন। এরইমধ্যে পূজনীয় ভান্তে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উত্তরে প্রায়ই বৌদ্ধপল্লীতে ধর্মপ্রচার ও বিচরণ করে সকলের মনে ধর্মবাণী ধারা উদ্বুদ্ধ ও নতুনভাবে নবজাগরণ সৃষ্টি করেন। তখন একসময় তিনি চিন্তা করেন বঙ্গীয় বৌদ্ধদের পূর্ব পুরুষ অতীতে মহাভারত হতে এদেশে বসতি সৃষ্টি করেছে। সেই বংশ পরম্পরা সৃষ্টির স্থান মহাভারত পদব্রজে দর্শনের ভাসনা সৃষ্টি হয়। সেই লালিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি পরিকল্পনা করেন , চট্টগ্রাম থেকে পায়ে হেঁটে ভারতের বিহার রাজ্যের পবিত্র বুদ্ধগয়া দর্শন করবেন।
সেই নিরিখে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি ধর্মযাত্রা শুরু করেন। গমন পথে রাউজান, বােয়ালখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া , বান্দরবান-বমুবিলছড়ি, চকরিয়া, উখিয়া, রামু হয়ে চট্টগ্রাম মহানগর , ঢাকা , ফরিদপুর , খুলনা হয়ে যশাের যােগে ভারতে প্রবেশ করেন । যাত্রাকালে বাংলাদেশ সরকারের সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব মােঃ আসাদুজামান খান কামাল এমপি মহােদয়ের সহযােগিতায় বাংলাদেশ পুলিশ সহকারে সার্বিক নিরাপত্তা গ্রহণ করেন । এরপর যখন ভারতে প্রবেশ পথে ভারতীয় হাই কমিশনার মাননীয় রিভা গাঙ্গুলী দাশ মহােদয়ার সার্বিক সহযােগিতায় ভারতীয় পুলিশ কর্তৃক নিরাপত্ত্বায় বিহার রাজ্যের বুদ্ধগয়ায় পদার্পন করেন ২৪ মার্চ ২০১৯ইং। পবিত্র তীর্থস্থান বুদ্ধগয়ায় বাংলাদেশের চট্টগ্রাম থেকে পদব্রজে গমনের সংবাদ পেয়ে বুদ্ধগয়া টেম্পল ম্যানেজমেন্ট কমিটি কর্তৃক বিশেষ সম্মাননা প্রদান করে সংবর্ধিত করেন । সেখানে ১৫দিন বুদ্ধপূজা ও ধর্মানুশীলনে অতিবাহিত করেন। পুনরায় স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে সম্মানের সহিত ভারতীয় পুলিশ যােগে প্রেরণা করা হয়। আসার পথে কলকাতা-মধ্যমগ্রাম, আসানসোল, দুর্গাপুর, ডানকুনি, বেলুড়, মােহনপুর, নাটাগড়, টালিগঞ্জ, বিবেকনগরসহ সেখানে অবস্থানরত প্রায়ই বৌদ্ধপল্লীতে পদব্রজে গিয়ে ধর্মদান সহ সংবর্ধনা গ্রহণ করেন । পূজনীয় ভান্তে এহেন
মহৎ উদ্দেশ্যে ও মহাত্যাগময় ধর্মযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়ে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রাক্কালে রাজধানীতে অবস্থানরত বৌদ্ধ জনসাধারাণ এক বিশাল ধর্মসভার আয়ােজন করেন। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে সম্মানিত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসভাজন সফল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি মহােদয়ের উপস্থিতিতে ঢাকাবাসী বৌদ্ধ কর্তৃক সংবর্ধনা প্রদান ও ধর্মদেশনার অনুষ্ঠান ভাবগম্ভীর পরিবেশে সুসম্পন্ন হয়।
জগতে শীলবান ও কল্যাণ ধর্মপালনকারী পন্ডিত ব্যক্তিগণ যত অধিককাল বেচেঁ থাকেন ততই জনগণের হিতসুখ সাধিত হয়ে থাকে, তারা বহুজনের সুখে ও মঙ্গলের জন্য আত্মনিয়ােগ করেন । এভাবে দীর্ঘ চারমাস ভারতে পরিভ্রমণ কালে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে পরিব্রাজক জীবন অতিবাহিত করেন। সেসময় আনুমানিক সাড়ে তিন হাজার কিলােমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের তীর্থস্থান দর্শন ও এই দু'বাংলার বৌদ্ধ পল্লীতে বিভিন্ন সময়ে ধর্মদান প্রদানের এমন নজির ইতিপূর্বে বৌদ্ধ সমাজে আর কখনাে শােনা যায়নি।
সকলের মনে সম্প্রীতির বন্ধন ও স্বজাতির মধ্যে ধর্মের আলােড়ন প্রতিস্থাপিত করতে তিনি ছুটেছেন দিকে দিকে। জেনেছেন পার্থিব দুঃখ , কষ্ট , সমাজ অবক্ষয় ও এর প্রতিকার। তৎপরিক্ষিতে পূজ্য ধুতাঙ্গ সাধক ভদন্ত শরণংকর থের মহােদয়ের আদর্শ- উদ্দেশ্যগুলাে স্থাপিত করা হচ্ছে পুণ্যভূমি জ্ঞানশরণ মহারণ্যে। যেখানে রয়েছে অনাথদের অনাথালয়, শিক্ষাহীনদের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। তাঁর পরিকল্পনাধীন স্থাপনাসমূহ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ধ্যানরত ১৩০ ফুট বুদ্ধপ্রতিবিম্ব, মাধ্যমিক সহ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্র, হাসপাতাল, অনাথালয়, আন্তর্জাতিক মানের বৌদ্ধ জাদুঘর, আন্তর্জাতিক মেডিটেশন সেন্টার, বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত ত্রিপিটক রিসার্চ সেন্টার, বিশ্বশান্তি কামনায় বুদ্ধচৈত্য, ভারতে প্রতিষ্ঠিত গৌতম বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহের আদলে চারি মহাতীর্থস্থান নির্মাণ, বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতা সম্পন্ন উপগুপ্ত মহাথের প্রতিবিম্ব ও শিষ্যবর্গের ভিক্ষু ট্রেনিং সেন্টার ও বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উচ্চতা সম্পন্ন সীবলী মহাথের প্রতিবিম্ব। যিনি ইতিমধ্যে কয়েকটা স্থাপনা বাস্তবায়ন করে এলাকার শতাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থী"কে পাঠদান ও অর্ধশত শিষ্য সহকারে অবস্থান করছেন।
এই পূজ্যবর সাধকের লক্ষ্য ও মানবতাবাদী চিন্তাধারা সত্যিই বর্তমান সময়ে উক্ত স্থানে একজন অভিভাবক রূপে কাজ করে যাচ্ছেন । যাঁহার আদর্শ ও ত্যাগময় জীবন দেখে অনুপ্রাণিত এবং স্বীয় জীবন উৎসর্গিত করেছেন সেসব শিষ্যবর্গের ভবিষ্যৎ এখনাে অনিশ্চিত বয়মান। কিন্তু সকলেই ত্যাগদীপ্ত ও প্রজ্ঞাময় জীবন অন্বেষণে সর্বদা এই গহীন অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মচর্চা করে যাচ্ছেন। তথাগত বুদ্ধের সাম্য মৈত্রীর সদ্ধর্মবাণী প্রদানের মধ্যে তারা নিত্য ধর্মপ্রাণ মানুষদের সহযােগিতায় সদা তৎপর।।
এ মহান সাধকের জীবনযাত্রায় সকল কর্মপ্রচেষ্টা সিদ্ধ হােক। শাসন সদ্ধর্মের কল্যাণার্থে এমন পুণ্যপুরুষের যেন বার বার আবির্ভাব ঘটুক সর্বদা ত্রিরত্ন সকাশে প্রার্থনা জানাই ।।।।
Visit our online Site.
Gayanasarana Buddhist Monastery "পুণ্যতীর্থভূমি জ্ঞানশরণ মহারণ্য"
Ven. Saranangkar thera. Meditator & Meditation teacher...
Venerable Saranangkar International Sangha Council - VSISC

“দানবীর রাজা বেসান্তর -দ্বিতীয় পর্ব” বৌদ্ধকীর্তন- শাক্যমিত্র বড়ুয়া Be...


দানবীর রাজা বেসান্তর -দ্বিতীয় পর্ব” বৌদ্ধকীর্তন- শাক্যমিত্র বড়ুয়া Bessantor Part-2, By ShakyaMitraBarua 

প্রথম বারের মত ইউটিউবে শাক্যমিত্র বড়ুয়া “দানবীর রাজা বেসান্তর” বৌদ্ধ কীর্তন সিরিজ আকারে-তিন পর্বে প্রকাশিত করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ইউটিউবে বেসান্তর কীর্তন অনেক খুঁজার পরও না পেয়ে আমি আমার দাদার কম্পিউটার থেকে mp3 সংগ্রহ করে ভিডিও আকারে release করলাম। 

আমি শাক্যমিত্র বড়ুয়া'র ভক্ত। ছোট বেলা থেকে এই কীর্তনগুলো শুনে বড়ো হয়েছি। তাই সারা জীবন শুনার জন্য আমি আমার মত করে ভিডিও রিলিজ করলাম। নিজে শুনুন এবং শেয়ার করে অন্যকে দেখার ও শুনার সুযোগ করে দিন...ধন্যবাদ.

বৌদ্ধ কীর্তনশাক্য মিত্র বড়ুয়া 

Buddha Kirton By Shakya

নিজে শুনুন এবং শেয়ার করে অন্যকে দেখার ও শুনার সুযোগ করে দিন...ধন্যবাদ. 

বৌদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও সংগীত শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া শাক্যমিত্র বড়ুয়ার জন্ম ও পরিবার সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারিনি। তবে উনি ছিলেন এক মহান শিল্পী। 

চট্টগ্রাম বেতার ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও সংগীত শিল্পী বাউল সম্রাট শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয় ৩০ জানুয়ারী ২০১৫ ভোর ৪ টায় শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বৌদ্ধরা সঙ্গীত জগতের এক মহান অবিভাবককে হারালো ৷ প্রয়াত বাউল সম্রাট শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয়এর সেই কীর্তিময় হৃদয় ছোঁয়া সুরের কন্ঠে গাওয়া বৌদ্ধ কীর্তন আজীবন সবাই শুনে যাবে।যতদিন বৌদ্ধ কীর্তন থাকবে ততদিন শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয় নাম চির অম্লান থাকবে। 

বুদ্ধ কীর্তন বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বুদ্ধ কীর্তন দেখতে হলে আপনাকে বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে যেতে হবে। মূলত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি মারা গেলে কিংবা মারা যাওয়ার কয়েকদিন পরে শ্রাদ্ধ বা সংঘদান অনুষ্টানের আগের রাতে গ্রামের সবাই মিলে বুদ্ধের জন্মমৃত্যু এবং জীবন নিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকজন কীর্তনীয়া গানকথার সুরে গান করে থাকে। মাটিতে পাটি বিছিয়ে সবাই গোল হয়ে বসে। মাঝখানে থাকে বড় একটা জায়গা যেখানে কীর্তনীয়া বা কবিয়ালরা বসে পান-বিড়ি খেতে খেতে মাথায় বুদ্ধি জমাতে থাকেন। বাংলা ঢোলহারমোনিয়ামঝুরি (পিতলের দুই টুকরোর বাদ্যযন্ত্র)বাঁশি আর মিলে গেলে বেলা। এইসব নানান যন্ত্রপাতি থাকে একটি গ্রাম্য বুদ্ধ কীর্তনে। চারপাশ ধরে কীর্তনীয়াদের ঘিরে বসে গ্রামের যুবকযুবতীবুড়ো এবং অন্যান্য মানুষজন। 

সাধারণত কীর্তনীয়া যারা থাকেন তারা সেদিন ধুতি-পাঞ্জাবিপায়জামা-পাঞ্জাবি পড়ে থাকেন। গ্রামের সাধারণ মানুষরাও লুঙ্গি-শাড়ী পড়েই কীর্তন দেখতে যান। নম: নম: বুদ্ধ নমবুদ্ধাং সারানাং গাচ্ছামি এসব কথাকে গানের সুরে তুলে কীর্তনীয়ারা মূলত কীর্তন শুরু করেন আর সাথে সাথে সুর মিলিয়ে অন্যান্য সকল মানুষরা সেসব কথার সাঁই জ্ঞাপক করেন সুরে সুরে। একটি গ্রাম্য বুদ্ধ কীর্তন অবশ্যই মাইক এর মাধ্যমেই করে থাকেন। সেখানে উন্নত কোন সাউন্ড সিস্টেম থাকে না। আমার মনে হয় যদি মাইক না দিয়ে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে বুদ্ধ কীর্তন করা হয় তাহলে বুদ্ধ কীর্তনের আসল রসবোধ হারিয়ে যাবে। যিনি হারমোনিয়ামে থাকেন ওনি মূলত মূল কীর্তনীয়ার গানের পর পর গান ধরে থাকেন এবং ওনার সাথে সাথেই সবাই গান করেন। অসাধারণ বাংলা ঢোলের শব্দ আর বাঁশির সুরে আপনি কখনোই সাধারণ অবস্থায় বসে থাকতে পারবেন নাআপনার মনে হবে একটু তাদের সাথে গলা মিলিয়ে নিই আর একটু গা ঝাঁকা দিয়ে সুরে হারায়। তবে গলা মিলিয়ে নেওয়া এবং গা ঝাঁকানো আপনার পক্ষে একদম সহজ হবে কারণ কীর্তন যারা মন দিয়ে শুনবেন সবাই নিশ্চয় গান না ধরে এবং গা না ঝাঁকিয়ে বসে থাকতে পারবেন না সুতরাং তাদের সাথে এসব নির্দ্বিধায় মিলানো যায়। 

একটি গ্রাম্য কীর্তনের মাধ্যমে আপনি মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবনযৌবন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা খুব সহজেই জেনে যেতে পারেন। সংক্ষিপ্ত আকারে যেকোন একজন কীর্তনীয়া এসব বলতেই পারেন সচরাচর। তাছাড়া যেটা অত্যান্ত মজার বিষয় সেটি হলোযখন পালটা কীর্তন শুরু হয় তখন একজন একজন করে কীর্তনীয়া দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বুদ্ধের নানান কাহিনী নিয়ে গান করেন এবং প্রতিপক্ষ কীর্তনীয়াকে দু-তিনটে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি মাইকের স্পিকার প্রতিপক্ষের হাতে দিয়ে দেন এবং প্রতিপক্ষ কীর্তনীয়া সেই প্রশ্নের উত্তর নানান অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ভাঙাতে ভাঙাতে উত্তর দেন। আবার মাঝেমধ্যে আপনি লক্ষ্য করবেন অনেক প্রশ্নের উত্তর না জানার কারণে কীর্তনীয়ারা বইয়ের কথা টেনে আনেন এবং বলেন অনেক বই পড়েছি কোথাও পাইনি এই প্রশ্ন। মাঝেমধ্যে দেখবেন কীর্তনীয়ারা অনেক কৌশলের মাধ্যমে তাদের কথা গানের মাধ্যমে সমাবেশকে বুঝিয়ে দেন। অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা এবং নতুন অনেক কিছু জানার আগ্রহ জন্ম নেবে একটি প্রকৃত বুদ্ধ কীর্তন দেখার মধ্য দিয়ে।

Thanks for watching and subscription!

May Supreme Buddha bless us and save us from Mara/Soytan! Regards -Rupak Barua

বৌদ্ধ শাসন চিরজীবি হোক ।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

Sadhu 🙏🏻 Sadhu 🙏 Sadhu 🙏🏻


কি আছে আমার পূজার উপাচার - শাক্য মিত্র বড়ুয়া এর কণ্ঠে


বৌদ্ধ কীর্তনশাক্য মিত্র বড়ুয়া 

Buddha Kirton By Shakya

নিজে শুনুন এবং শেয়ার করে অন্যকে দেখার ও শুনার সুযোগ করে দিন...ধন্যবাদ. 

বৌদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও সংগীত শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া শাক্যমিত্র বড়ুয়ার জন্ম ও পরিবার সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারিনি। তবে উনি ছিলেন এক মহান শিল্পী। 

চট্টগ্রাম বেতার ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও সংগীত শিল্পী বাউল সম্রাট শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয় ৩০ জানুয়ারী ২০১৫ ভোর ৪ টায় শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বৌদ্ধরা সঙ্গীত জগতের এক মহান অবিভাবককে হারালো ৷ প্রয়াত বাউল সম্রাট শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয়এর সেই কীর্তিময় হৃদয় ছোঁয়া সুরের কন্ঠে গাওয়া বৌদ্ধ কীর্তন আজীবন সবাই শুনে যাবে।যতদিন বৌদ্ধ কীর্তন থাকবে ততদিন শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয় নাম চির অম্লান থাকবে। 

বুদ্ধ কীর্তন বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বুদ্ধ কীর্তন দেখতে হলে আপনাকে বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে যেতে হবে। মূলত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি মারা গেলে কিংবা মারা যাওয়ার কয়েকদিন পরে শ্রাদ্ধ বা সংঘদান অনুষ্টানের আগের রাতে গ্রামের সবাই মিলে বুদ্ধের জন্মমৃত্যু এবং জীবন নিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকজন কীর্তনীয়া গানকথার সুরে গান করে থাকে। মাটিতে পাটি বিছিয়ে সবাই গোল হয়ে বসে। মাঝখানে থাকে বড় একটা জায়গা যেখানে কীর্তনীয়া বা কবিয়ালরা বসে পান-বিড়ি খেতে খেতে মাথায় বুদ্ধি জমাতে থাকেন। বাংলা ঢোলহারমোনিয়ামঝুরি (পিতলের দুই টুকরোর বাদ্যযন্ত্র)বাঁশি আর মিলে গেলে বেলা। এইসব নানান যন্ত্রপাতি থাকে একটি গ্রাম্য বুদ্ধ কীর্তনে। চারপাশ ধরে কীর্তনীয়াদের ঘিরে বসে গ্রামের যুবকযুবতীবুড়ো এবং অন্যান্য মানুষজন। 

সাধারণত কীর্তনীয়া যারা থাকেন তারা সেদিন ধুতি-পাঞ্জাবিপায়জামা-পাঞ্জাবি পড়ে থাকেন। গ্রামের সাধারণ মানুষরাও লুঙ্গি-শাড়ী পড়েই কীর্তন দেখতে যান। নম: নম: বুদ্ধ নমবুদ্ধাং সারানাং গাচ্ছামি এসব কথাকে গানের সুরে তুলে কীর্তনীয়ারা মূলত কীর্তন শুরু করেন আর সাথে সাথে সুর মিলিয়ে অন্যান্য সকল মানুষরা সেসব কথার সাঁই জ্ঞাপক করেন সুরে সুরে। একটি গ্রাম্য বুদ্ধ কীর্তন অবশ্যই মাইক এর মাধ্যমেই করে থাকেন। সেখানে উন্নত কোন সাউন্ড সিস্টেম থাকে না। আমার মনে হয় যদি মাইক না দিয়ে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে বুদ্ধ কীর্তন করা হয় তাহলে বুদ্ধ কীর্তনের আসল রসবোধ হারিয়ে যাবে। যিনি হারমোনিয়ামে থাকেন ওনি মূলত মূল কীর্তনীয়ার গানের পর পর গান ধরে থাকেন এবং ওনার সাথে সাথেই সবাই গান করেন। অসাধারণ বাংলা ঢোলের শব্দ আর বাঁশির সুরে আপনি কখনোই সাধারণ অবস্থায় বসে থাকতে পারবেন নাআপনার মনে হবে একটু তাদের সাথে গলা মিলিয়ে নিই আর একটু গা ঝাঁকা দিয়ে সুরে হারায়। তবে গলা মিলিয়ে নেওয়া এবং গা ঝাঁকানো আপনার পক্ষে একদম সহজ হবে কারণ কীর্তন যারা মন দিয়ে শুনবেন সবাই নিশ্চয় গান না ধরে এবং গা না ঝাঁকিয়ে বসে থাকতে পারবেন না সুতরাং তাদের সাথে এসব নির্দ্বিধায় মিলানো যায়। 

একটি গ্রাম্য কীর্তনের মাধ্যমে আপনি মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবনযৌবন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা খুব সহজেই জেনে যেতে পারেন। সংক্ষিপ্ত আকারে যেকোন একজন কীর্তনীয়া এসব বলতেই পারেন সচরাচর। তাছাড়া যেটা অত্যান্ত মজার বিষয় সেটি হলোযখন পালটা কীর্তন শুরু হয় তখন একজন একজন করে কীর্তনীয়া দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বুদ্ধের নানান কাহিনী নিয়ে গান করেন এবং প্রতিপক্ষ কীর্তনীয়াকে দু-তিনটে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি মাইকের স্পিকার প্রতিপক্ষের হাতে দিয়ে দেন এবং প্রতিপক্ষ কীর্তনীয়া সেই প্রশ্নের উত্তর নানান অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ভাঙাতে ভাঙাতে উত্তর দেন। আবার মাঝেমধ্যে আপনি লক্ষ্য করবেন অনেক প্রশ্নের উত্তর না জানার কারণে কীর্তনীয়ারা বইয়ের কথা টেনে আনেন এবং বলেন অনেক বই পড়েছি কোথাও পাইনি এই প্রশ্ন। মাঝেমধ্যে দেখবেন কীর্তনীয়ারা অনেক কৌশলের মাধ্যমে তাদের কথা গানের মাধ্যমে সমাবেশকে বুঝিয়ে দেন। অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা এবং নতুন অনেক কিছু জানার আগ্রহ জন্ম নেবে একটি প্রকৃত বুদ্ধ কীর্তন দেখার মধ্য দিয়ে।

Thanks for watching and subscription!

May Supreme Buddha bless us and save us from Mara/Soytan! Regards -Rupak Barua

বৌদ্ধ শাসন চিরজীবি হোক ।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

Sadhu 🙏🏻 Sadhu 🙏 Sadhu 🙏🏻


পতিত পাবন বুদ্ধ, একবার দেখা দাও আমারে- বৌদ্ধ কীর্তন, By Shakya Mitra Bar...

পতিত পাবন বুদ্ধ, একবার দেখা দাও আমারে, বৌদ্ধ কীর্তন, শাক্য মিত্র বড়ুয়া 

Buddha Kirton By Shakya

নিজে শুনুন এবং শেয়ার করে অন্যকে দেখার ও শুনার সুযোগ করে দিন...ধন্যবাদ. 

বৌদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও সংগীত শিল্পী শাক্যমিত্র বড়ুয়া শাক্যমিত্র বড়ুয়ার জন্ম ও পরিবার সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারিনি। তবে উনি ছিলেন এক মহান শিল্পী। 

চট্টগ্রাম বেতার ও বৌদ্ধ ধর্মীয় কীর্তন ও সংগীত শিল্পী বাউল সম্রাট শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয় ৩০ জানুয়ারী ২০১৫ ভোর ৪ টায় শেষ-নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বৌদ্ধরা সঙ্গীত জগতের এক মহান অবিভাবককে হারালো ৷ প্রয়াত বাউল সম্রাট শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয়এর সেই কীর্তিময় হৃদয় ছোঁয়া সুরের কন্ঠে গাওয়া বৌদ্ধ কীর্তন আজীবন সবাই শুনে যাবে।যতদিন বৌদ্ধ কীর্তন থাকবে ততদিন শাক্যমিত্র বড়ুয়া মহোদয় নাম চির অম্লান থাকবে। 

বুদ্ধ কীর্তন বাঙালির প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য। বুদ্ধ কীর্তন দেখতে হলে আপনাকে বৌদ্ধ পল্লীগুলোতে যেতে হবে। মূলত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কোন ব্যক্তি মারা গেলে কিংবা মারা যাওয়ার কয়েকদিন পরে শ্রাদ্ধ বা সংঘদান অনুষ্টানের আগের রাতে গ্রামের সবাই মিলে বুদ্ধের জন্ম, মৃত্যু এবং জীবন নিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকজন কীর্তনীয়া গান, কথার সুরে গান করে থাকে। মাটিতে পাটি বিছিয়ে সবাই গোল হয়ে বসে। মাঝখানে থাকে বড় একটা জায়গা যেখানে কীর্তনীয়া বা কবিয়ালরা বসে পান-বিড়ি খেতে খেতে মাথায় বুদ্ধি জমাতে থাকেন। বাংলা ঢোল, হারমোনিয়াম, ঝুরি (পিতলের দুই টুকরোর বাদ্যযন্ত্র), বাঁশি আর মিলে গেলে বেলা। এইসব নানান যন্ত্রপাতি থাকে একটি গ্রাম্য বুদ্ধ কীর্তনে। চারপাশ ধরে কীর্তনীয়াদের ঘিরে বসে গ্রামের যুবক, যুবতী, বুড়ো এবং অন্যান্য মানুষজন। 

সাধারণত কীর্তনীয়া যারা থাকেন তারা সেদিন ধুতি-পাঞ্জাবি, পায়জামা-পাঞ্জাবি পড়ে থাকেন। গ্রামের সাধারণ মানুষরাও লুঙ্গি-শাড়ী পড়েই কীর্তন দেখতে যান। নম: নম: বুদ্ধ নম, বুদ্ধাং সারানাং গাচ্ছামি এসব কথাকে গানের সুরে তুলে কীর্তনীয়ারা মূলত কীর্তন শুরু করেন আর সাথে সাথে সুর মিলিয়ে অন্যান্য সকল মানুষরা সেসব কথার সাঁই জ্ঞাপক করেন সুরে সুরে। একটি গ্রাম্য বুদ্ধ কীর্তন অবশ্যই মাইক এর মাধ্যমেই করে থাকেন। সেখানে উন্নত কোন সাউন্ড সিস্টেম থাকে না। আমার মনে হয় যদি মাইক না দিয়ে উন্নত সাউন্ড সিস্টেম দিয়ে বুদ্ধ কীর্তন করা হয় তাহলে বুদ্ধ কীর্তনের আসল রসবোধ হারিয়ে যাবে। যিনি হারমোনিয়ামে থাকেন ওনি মূলত মূল কীর্তনীয়ার গানের পর পর গান ধরে থাকেন এবং ওনার সাথে সাথেই সবাই গান করেন। অসাধারণ বাংলা ঢোলের শব্দ আর বাঁশির সুরে আপনি কখনোই সাধারণ অবস্থায় বসে থাকতে পারবেন না, আপনার মনে হবে একটু তাদের সাথে গলা মিলিয়ে নিই আর একটু গা ঝাঁকা দিয়ে সুরে হারায়। তবে গলা মিলিয়ে নেওয়া এবং গা ঝাঁকানো আপনার পক্ষে একদম সহজ হবে কারণ কীর্তন যারা মন দিয়ে শুনবেন সবাই নিশ্চয় গান না ধরে এবং গা না ঝাঁকিয়ে বসে থাকতে পারবেন না সুতরাং তাদের সাথে এসব নির্দ্বিধায় মিলানো যায়। 

একটি গ্রাম্য কীর্তনের মাধ্যমে আপনি মহামানব গৌতম বুদ্ধের জীবন, যৌবন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সব ঘটনা খুব সহজেই জেনে যেতে পারেন। সংক্ষিপ্ত আকারে যেকোন একজন কীর্তনীয়া এসব বলতেই পারেন সচরাচর। তাছাড়া যেটা অত্যান্ত মজার বিষয় সেটি হলো, যখন পালটা কীর্তন শুরু হয় তখন একজন একজন করে কীর্তনীয়া দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ বুদ্ধের নানান কাহিনী নিয়ে গান করেন এবং প্রতিপক্ষ কীর্তনীয়াকে দু-তিনটে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিনি মাইকের স্পিকার প্রতিপক্ষের হাতে দিয়ে দেন এবং প্রতিপক্ষ কীর্তনীয়া সেই প্রশ্নের উত্তর নানান অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে ভাঙাতে ভাঙাতে উত্তর দেন। আবার মাঝেমধ্যে আপনি লক্ষ্য করবেন অনেক প্রশ্নের উত্তর না জানার কারণে কীর্তনীয়ারা বইয়ের কথা টেনে আনেন এবং বলেন অনেক বই পড়েছি কোথাও পাইনি এই প্রশ্ন। মাঝেমধ্যে দেখবেন কীর্তনীয়ারা অনেক কৌশলের মাধ্যমে তাদের কথা গানের মাধ্যমে সমাবেশকে বুঝিয়ে দেন। অসাধারণ সব অভিজ্ঞতা এবং নতুন অনেক কিছু জানার আগ্রহ জন্ম নেবে একটি প্রকৃত বুদ্ধ কীর্তন দেখার মধ্য দিয়ে।

Thanks for watching and subscription!

May Supreme Buddha bless us and save us from Mara/Soytan! Regards -Rupak Barua

বৌদ্ধ শাসন চিরজীবি হোক ।

জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক।

Sadhu 🙏🏻 Sadhu 🙏 Sadhu 🙏🏻


Sunday, 10 January 2016

“সোনাইছড়ি রাজ বিহার” by Rupak Barua

আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে তেমনি একটি ছোট নদী সোনাইছড়ি , যার পাশেসোনাইছড়ি রাজ বিহার এবং সোনাইছড়ি গ্রাম  অবস্থিত। এটি চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনীয়া থানাধীন উত্তর ঘাটচেক  ইউনিয়নের নং ওয়াডের অন্তভুক্ত। সোনাইছড়ি নদী এখানে এসে ইছামতি  নদীতে শেষ হয় বিধায় নদীকে সম্মান দেখানোর জন্য এরূপ নামকরন করা হয়

রাজা ভূবন রায় কর্তৃক ১৮৯৮ সালে বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশ্য নিয়ে মতদ্বৈত্যতা আছে।  সুনীতি রঞ্জন চাকমা মতে  ১৮৮০ সালে কালিন্দী রানী  এই বিহারটি নির্মাণ করেন এবং এটি  “কালিন্দী রানী রাজ বিহার  নামে পরিচিত ছিল,(সূত্রঃ- পৄষ্ঠাঃ /“ধূতাঙ্গঁ ভান্তের ত্যাগময় জীবন ধর্ম ছায়া ) পরে নাম পরিবর্তন করে সোনাইছড়ি রাজ বিহার  রাখা হয়। বিতর্ক যাই হোক , মহান বৌদ্ধধর্মের একটি  বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার পেছনে ছয়টি গ্রামের বিরাট এক জনগোষ্ঠী সদ্ধর্ম চর্চা করবে-  এটাই মূল কথা।

এই ছয়গ্রামগুলো হলো- সাহাব্দীনগর, জামপুকুর, কোকানীয়া, ভূবনের খীল, বিহার পাড়া এবং সোনাইছড়ি পূর্ব পাড়া।শত বছরের ইতিহাসে দেখা যায় যে , যাতায়তের অসুবিধার কারনে সাহাব্দীনগর গ্রামবাসীরাসাহাব্দীনগর সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার নামক একটি বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করেন এবং তাতে ধর্ম চর্চায় মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে সোনাইছড়ি পূর্ব পাড়ার একাংশ কর্তৃক ২০০২ সালেসোনাইছড়ি সার্বজনীন বৌদ্ধ বিহার নামক আরেকটি  বৌদ্ধ বিহার নির্মাণ করে


কাঁচা ইটের উপর নির্মিত মাটির বিহারটি খুবই মনোরম ছিল। মূল বিহারের চারপাশে  অপূর্ব কারুকাজ মণ্ডিত থাম এবং বারান্দা ছিল যা রাজানগর রাজ বিহারের আদলে নির্মিত। পোড়া মাটির নির্মিত হারবা দিয়ে ছাউনি ছিল বিহারের দক্ষিণ পাশে একটি পুকুর ছিল। পুকুরটি ভরাট করে এখন একটি সুদশ্য ধর্মমঞ্চ তৈরি করা হয় পশ্চিমে একটি বড় বোধিগাছ আছে। বর্তমানে বোধিবৄক্ষ মূলের মন্দির এবং পাশের ভিক্ষু সীমা ঘরটি সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বিহারের বড় বুদ্ধ মূর্তিটি খুবই সুন্দর এবং মনোহর এরকম শৈল্পিক নিদর্শন খুব কম দেখা যায়। দেয়ালে পীচ বোডের উপর অঙ্কিত বোধিগাছের ছবি, বুদ্ধের কঠোর ধ্যান, সিবলী, আনন্দ, অঙ্গুলিমালা  এবং জাতকের বিভিন্ন উপাখ্যানের ছবিগুলি এত নিখুত ভাবে শিল্পী তার তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন যে, দেখলে জীবন্ত প্রতিমূর্তি মনে হতো। অন্তরে ভক্তি আপনা থেকেই জেগে উঠত। আমরা শিল্পী ব্রহ্মপদ আচায্যের নিকট কৃতজ্ঞ। পরবর্তীতে  বিহার পাকা করার সময় ছবি গুলি নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি বুদ্ধ মূর্তি শুদ্ধানন্দ ভান্তে কতৄক নির্মিত। বর্তমানে নতুন একটি বুদ্ধ মূর্তি জ্ঞানবোধি (দিবানন্দ) ভান্তে বিহারাধ্যক্ষ সুনন্দ ভান্তের  তত্তাবধানে থাইল্যান্ড থেকে  আনা হয় দুজনই (শুদ্ধানন্দ দিবানন্দ)এই বিহারে শ্রামণ্য জীবন শুরু করেন।
বিহারে বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুনন্দ ভিক্ষুর একটি  ধর্মীয় পাঠাগার আছে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত। এতে প্রায় সহস্রাধিক বই আছে।
 শ্রীমৎ সুমঙ্গল মহাস্হবির, শ্রীমৎ সংঘরক্ষিত মহাস্হবির, শ্রীমৎ শান্তিজোতি ভিক্ষু, শ্রীমৎ লোকানন্দ মহাস্হবির এবং বিপসসী্ প্রমূখ ভিক্ষুরা বিহারে বিহারাধ্যক্ষ হিসেবে থেকে সদ্ধর্ম চর্চা এবং রক্ষায়  অপরিমেয় ভুমিকা রাখেন। বর্তমানে  বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুনন্দ ভিক্ষু, উপাধ্যক্ষ নন্দপ্রিয় ভিক্ষু এবং জন শ্রমণ জন সেবক আছেন।

বাংলাদেশ বৌদ্ধদের পরমারাধ্য ধূতাঙ্গঁ ভান্তে শ্রীমৎ শীলানন্দ মহাস্হবিরের জন্মভূমি এই গ্রামে এবং এই বিহারেই ১৯৮৮ সালে শ্রীমৎলোকানন্দ মহাস্হবির শ্রীমৎধর্মসেন মহাস্হবিরের পরিচালনায় প্রব্রজ্জিত জীবন শুরু করেন। এছাড়া শ্রীমৎশাসনপ্রিয় ভিক্ষু, শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ ভিক্ষু, শ্রীমৎ প্রিয়ানন্দ, শ্রীমৎঅরূপানন্দ, শ্রীমৎশ্রদ্ধানন্দ, শ্রীমৎধর্মানন্দ , শ্রীমৎপ্রজ্ঞানন্দ , শ্রীমৎদিবানন্দ , শ্রীমৎরাহুলানন্দ সহ অনেকে বিহারে শ্রামণ্য জীবন শুরু করেন শ্রদ্ধেয় লোকানন্দ মহাস্হবিরের প্রচেষ্ঠায়। বিহারের পশ্চিম দিকে বোধি মন্দিরের পাশে অত্র সোনাইছড়ি গ্রামের সন্তান শ্রীমৎ বুদ্ধানন্দ স্হবিরের একটি স্মৃতি মন্দির আছে। গ্রামেরই আরেক জন বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রীমৎকল্যাণমিত্র (গৃহী নাম-সুগত বড়ুয়া) ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বৌদ্ধধর্ম প্রচার করে শেষ জীবনে গৌহাটি বৌদ্ধ বিহারে অবস্হান কালীন সময়ে দেহ ত্যাগ করেন(সূত্রঃ-“ধর্মসেনাপতি পৄষ্ঠাঃ১১৯)

শ্রীমৎলোকানন্দ মহাস্হবিরের সময়ে সোনাইছড়ি রাজ বিহারএর সংস্কার কা শুরু হয়, যা পরবর্তীতে ভেঙ্গে পূনঃনির্মাণ করা হয়। বর্তমানের প্রাসাদোপম নান্দনিক বিশাল হল ঘর সমন্বিত আধুনিক যে বিহারটি আমরা দেখতে পাই, তা সৃষ্ঠিতে সেক্রেটারী সুকৃতি রঞ্জন বড়ুয়া, বিহারাধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুনন্দ ভিক্ষু এবং গ্রামবাসীর কঠোর পরিশ্রমও অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। 

সোনাইছড়ি রাজ বিহার প্রাঙ্গনের আয়তন, নির্মাণশৈলী, নান্দনিকতায় এটি রাঙ্গুনীয়ার অন্যতম একটি শ্রেষ্ঠ বিহার বললেও অত্যুক্তি হবে না।


                                    “May All Beings be Happy